মাঘ মাসে মুলো খাওয়া নিষেধ কেন?

মাঘ মাসে মুলো খাওয়া নিষেধ কেন?

এই মাসে সনাতনী শাস্ত্র ও আয়ুর্বেদ মতে কি, কি, কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছে ?

সনাতনী শাস্ত্রমতে মাঘ মাসকে অত্যন্ত পবিত্র ও শুভবলে মান্যতা দাওয়া হয়!

কারণ:

সূর্যের অবস্থান, তিথি ও নক্ষত্রের প্রভাবের কারণে মাঘ মাসে আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধি পায়! তাই এই মাসে নানা শুভ কাজ সম্পন্ন করার প্রচলন আছে,তাই কিছু খাদ্যাভ্যাস ও বিধান শাস্ত্রে উল্লেখ আছে।

শাস্ত্র মতে এই বিধানগুলি মানলে ঈশ্বরের কৃপা লাভ হয় এবং অমান্য করলে বহুমুখী সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় বলে প্রচলিত ধারণা!

এই বছর ১৫ জানুয়ারি শুরু হয়েছে মাঘ মাস। এই মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী বন্দনা করাহয় হয় এবং সনাতনী বাঙালি সমাজে বিয়ে, অন্নপ্রাশন, উপনয়ন প্রভৃতি শুভ অনুষ্ঠান এই সময় অনুষ্ঠিত হয়, তাই সংযমী জীবনযাপন করা ও খাদ্যে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা ও এই সময় নিজেকে শুদ্ধ রাখার,ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়!

সনাতনী শাস্ত্রমতে মুলো খাওয়া মাঘ মাসে নিষিদ্ধ:

শাস্ত্র মতে, মাঘ মাসে মুলো খাওয়াকে মদ্যপান ও গোমাংস ভক্ষণের সমান অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়! শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ও বিভিন্ন পুরাণ অনুসারে, এই সময়ে মুলা খেলে পারলৌকিক পুণ্যক্ষয় হয় বলে বিশ্বাস করা হয়! 

মাঘ মাসে শীতের আধিক্যের কারণে শরীরে প্রাকৃতিকভাবেই বাতের প্রভাব বেশি থাকে। মুলো এমন একটি সবজি যা এই সময় খেলে হজমের সমস্যা, গ্যাস বা শরীরে ব্যথা বৃদ্ধি পেতে পারে! শরীরে উত্তেজনা সৃষ্টি করে মুলো খেলে শরীরে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে যাতে মানসিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে,তাই মুলো না খাওয়াই শ্রেয়!

মুলোকে মাঘ মাসের শীতলতা ও পবিত্র শক্তির বিরোধী মনে করা হয়! 

তামসিক খাদ্য থেকে দূরে থাকার বিধান:

শরীরে অস্থিরতা বাড়ায় এবং আধ্যাত্মিক উন্নতিতে বাধা সৃষ্টি করে,সেই সকল ধরনের খাদ্য,যেমন:-

পেঁয়াজ, রসুন, মাছ, মাংস ও যে কোনও ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ মাঘ মাসে নিষিদ্ধ। নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে পুরো মাস দূরে থাকাই শ্রেয়।

মাঘ মাসে সংযমী জীবনযাপনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মানসিক শুদ্ধতার প্রতীক, বাড়ি-ঘর,পরিষ্কার পরিছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি! ঘরে ধুলো-ময়লা জমে থাকলে লক্ষ্মীদেবী সেই ঘর ত্যাগ করেন!

কথাবার্তায় সংযম গুরুত্বপূর্ণ:

এই সময় শান্ত, সংযত এবং নম্র আচরণ বজায় রাখা অত্যন্ত শুভ! শাস্ত্র মতে, মাঘ মাসে উচ্চস্বরে কথা বলা,ঝগড়া-বিবাদ,কটু কথা,অন্যের নিন্দা করা থেকে বিরত থাকা উচিত!অন্যথা নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে জীবনে থেকে যেতে পারে!

সাহায্য, সহানুভূতি:

বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ও শিশুদের প্রতি আচরণে সাহায্য, সহানুভূতি ও দয়াভাব প্রদর্শন ও অসহায় মানুষকে সাহায্য করলে ঈশ্বর সন্তুষ্ট হন এবং জীবনে শুভ ফল প্রাপ্তিহয়!

কঠোর আচরণে পাপের ভাগ বাড়ে!

আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধি,মানসিক শান্তি এবং পারিবারিক স্বচ্ছলতা বজায় রাখতে, মাঘ মাসে, সকল সনাতনীর ধর্মীয় আত্মসংযম এবং শুদ্ধ জীবনযাপনের এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। 

Enjoyed this article? Stay informed by joining our newsletter!

Comments

You must be logged in to post a comment.

Popular News
Jan 3, 2026, 12:48 AM Newshungar
Jan 16, 2026, 3:43 PM Knowledgehungar
Jul 10, 2025, 5:38 PM Newshungar